ডার্ক ওয়েবের নাম শুনলেই সাধারণত চোখের সামনে ভেসে ওঠে গোপন ওয়েবসাইট, সাইবার অপরাধী ও চুরি করা তথ্যের বাজার। বাংলাদেশও এই ঝুঁকির বাইরে নেই। গত কয়েক বছরে দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য ফাঁস, অনলাইনে বিক্রির দাবি এবং বিভিন্ন সাইবার অপরাধী প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশি নাগরিকদের তথ্য ছড়িয়ে পড়ার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে।
সাম্প্রতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ৬০ লাখ বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীর CV বিক্রির দাবি। ‘Madarax’ নামে একটি হ্যাকার গ্রুপ Bdjobs থেকে এসব তথ্য নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে ডার্ক ওয়েবে বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছে। তবে Bdjobs এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিয়ে ছড়ানো তথ্যকে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য বলে জানিয়েছে। ফলে ৬০ লাখ CV সত্যিই Bdjobs থেকে চুরি হয়েছে কি না, সেটি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়।
এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি পার্থক্য। কারণ ডার্ক ওয়েবে কোনো তথ্য বিক্রির দাবি পাওয়া আর সেই তথ্যের উৎস ও সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া এক বিষয় নয়।
এই প্রতিবেদনে প্রকাশ্য থ্রেট-ইন্টেলিজেন্স, সরকারি সাইবার নিরাপত্তা প্রতিবেদন, আন্তর্জাতিক গবেষণা এবং বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-সম্পর্কিত উল্লেখযোগ্য ডেটা ফাঁসের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অবৈধ ডার্ক ওয়েব মার্কেট বা চুরি করা ব্যক্তিগত ডেটাসেট সরাসরি অ্যাক্সেস বা পুনঃপ্রকাশ করা হয়নি।
২০২৩: ৫ কোটির বেশি নাগরিকের তথ্য উন্মুক্ত
বাংলাদেশের ডেটা নিরাপত্তা সংকটের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ২০২৩ সালে। একটি সরকারি-সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের দুর্বলতার কারণে ৫ কোটির বেশি নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে উন্মুক্ত হয়ে যায়।
প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, ফোন নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্র-সংক্রান্ত তথ্য ছিল। বিষয়টি প্রথমে নিরাপত্তা গবেষকদের নজরে আসে এবং পরে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায়। সরকারের পক্ষ থেকেও বিষয়টি স্বীকার করে ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা দুর্বলতার কথা বলা হয়েছিল।
এই ঘটনা সরাসরি ‘ডার্ক ওয়েব হ্যাক’ ছিল—এমনটা বলা ঠিক হবে না। বরং এটি ছিল ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনের নিরাপত্তা দুর্বলতার কারণে ডেটা এক্সপোজার। কিন্তু একবার তথ্য বাইরে চলে গেলে তা পরে Telegram, বিভিন্ন ফোরাম ও অপরাধী নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
NTMC: NID, ফোন রেকর্ড, পাসপোর্ট ও ব্যাংক-তথ্যের ভয়াবহ উদাহরণ
২০২৩ সালের নভেম্বরের আরেকটি ঘটনা আরও সংবেদনশীল।
বাংলাদেশের National Telecommunication Monitoring Centre (NTMC)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ডেটাবেস দীর্ঘ সময় অনিরাপদ অবস্থায় ছিল বলে আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানে উঠে আসে। WIRED-এর গবেষণায় ওই ডেটাবেসে নাম, পেশা, রক্তের গ্রুপ, বাবা-মায়ের নাম, ফোন নম্বর, কলের সময়কাল, গাড়ির নিবন্ধন, পাসপোর্টের তথ্য ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট ছবিসহ বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যায়।
সব তথ্য যে বাস্তব মানুষের ছিল, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি; কিছু তথ্য ছিল পরীক্ষামূলক, অসম্পূর্ণ বা ভুল। তবে WIRED নমুনা যাচাই করে বাস্তব মানুষের নাম, ফোন নম্বর ও অন্যান্য তথ্যও পেয়েছিল।
আরও উদ্বেগের বিষয় ছিল call metadata—কে কাকে ফোন করেছে, কখন করেছে এবং কতক্ষণ কথা হয়েছে। এ ধরনের তথ্য সরাসরি কথোপকথনের অডিও না হলেও একজন ব্যক্তির যোগাযোগের নেটওয়ার্ক ও চলাফেরার গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দিতে পারে।
NID এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্যগুলোর একটি
বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য নিয়ে গত কয়েক বছরে একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এমন একটি চক্রের সন্ধান পায়, যারা সরকারি ওয়েবসাইটের নকল সংস্করণ ব্যবহার করে NID-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করছিল। তদন্তে NID তথ্য ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি সনদ ও নথি দেওয়ার কথাও উঠে আসে।
এরপর মে ২০২৪-এ The Daily Star একটি অনুসন্ধানে জানায়, বিভিন্ন Facebook, Telegram ও WhatsApp গ্রুপে NID ও ফোনকলের তথ্য বিক্রির একটি বাজার তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে একটি চক্রের ওয়েবসাইটে NID নম্বর ও জন্মতারিখ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত তথ্য দেখার সুযোগ পাওয়ার কথা বলা হয়।
আরও বিস্ময়কর তথ্য আসে NTMC-এর অনুসন্ধান থেকে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২১টি WhatsApp, ৪৮টি Telegram এবং ৭২০টি Facebook গ্রুপ/পেজে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির কার্যক্রম শনাক্ত করা হয়েছিল; এসব প্ল্যাটফর্মের সম্মিলিত সদস্য ও অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৩২ লাখ।
শুধু হ্যাকার নয়, ভেতরের লোকও বড় ঝুঁকি
ডেটা ফাঁসের ক্ষেত্রে সবসময় বিদেশি হ্যাকার বা ডার্ক ওয়েব অপরাধী দায়ী—এমন ধারণাও ভুল।
২০২৪ সালে NTMC-এর তথ্য উদ্ধৃত করে bdnews24 জানায়, দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নাগরিকদের NID তথ্য ও ফোনকলের রেকর্ড অনলাইনে বিক্রির অভিযোগ ওঠে। NTMC-এর তৎকালীন মহাপরিচালক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তথ্য Facebook ও Telegram-এর মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছিল এবং ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল।
অর্থাৎ নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা কখনো কখনো প্রযুক্তি নয়—ডেটাবেসে বৈধ প্রবেশাধিকার থাকা ব্যক্তির অপব্যবহারও হতে পারে।
২০২৪: IT কোম্পানি, জ্বালানি খাত ও আর্থিক তথ্য
বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে BGD e-GOV CIRT-এর ২০২৪ সালের থ্রেট ল্যান্ডস্কেপে ডার্ক ওয়েব-সম্পর্কিত একাধিক ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে ২০২৪-এ একটি বাংলাদেশি IT service provider-এর মিলিয়নসংখ্যক ব্যক্তিগত তথ্য হ্যাকার ফোরামে ফাঁস হওয়ার ঘটনা সামনে আসে। তথ্যের মধ্যে নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট-সংক্রান্ত তথ্য ছিল।
অক্টোবরে একটি বড় জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সার্ভারে root access বিক্রির বিজ্ঞাপন ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ করা হয়। শুরুতে এর দাম ছিল ১,০০০ ডলার, পরে তা ২,৫০০ ডলারে বাড়ানো হয়। BGD e-GOV CIRT তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট সার্ভার ও সম্ভাব্য দুর্বলতা শনাক্ত করে প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করে।
এখানে ঝুঁকিটি শুধু তথ্য চুরি নয়। কোনো গুরুত্বপূর্ণ সার্ভারের প্রশাসনিক প্রবেশাধিকার বিক্রি হলে অপরাধীরা পরবর্তী সময়ে ransomware, espionage বা আরও বড় ডেটা চুরির সুযোগ পেতে পারে।
MFS ও NID তথ্য নিয়েও বড় উদ্বেগ
২০২৪ সালে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহারকারীদের তথ্য নিয়ে Telegram-ভিত্তিক বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়ে।
Nagad-এর পক্ষ থেকে গ্রাহক তথ্য বিক্রির নামে Telegram bot ও ওয়েবসাইট ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করা হয়। bdnews24-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু চক্র NID নম্বর ও জন্মতারিখ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত তথ্য পাওয়ার দাবি করছিল। তবে এসব দাবির সবগুলোকে প্রকৃত MFS database breach হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি।
এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো অপরাধী যদি পুরোনো, প্রকাশ্য বা অন্য উৎস থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে ‘Nagad data’ বা ‘bKash data’ নামে বিক্রি করে, সেটি সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের database hack প্রমাণ করে না।
২০২৪-২৫: ১১ কোটির বেশি নাগরিকের NID নিয়ে তদন্ত
২০২৪ সালের অক্টোবরে ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ নির্বাচন কমিশনের ডেটা সেন্টারের সাবেক এক কর্মকর্তাকে নাগরিকদের NID তথ্য বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তারের কথা জানায়।
তদন্তকারীদের অভিযোগ ছিল, ১১ কোটির বেশি নাগরিকের ৪৬ ধরনের ব্যক্তিগত তথ্যের mirror copy তৈরি করা হয়েছিল এবং তা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছে দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল।
এরপর ২০২৫ সালে নির্বাচন কমিশন পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে NID তথ্য ফাঁসের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায়। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, Upay, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের iBAS-এর নাম আসে।
এগুলো ডার্ক ওয়েবের সরাসরি বাজারে পাওয়া গেছে—এমন দাবি করা যাবে না। কিন্তু এসব ঘটনা দেখায়, ডেটা একবার বৈধ ব্যবস্থার বাইরে চলে গেলে সেটি অপরাধী নেটওয়ার্কে যাওয়ার পথ তৈরি করে।
২০২৬: ৬০ লাখ CV বিক্রির নতুন দাবি
সাম্প্রতিক ঘটনায় ‘Madarax’ নামে একটি হ্যাকার গ্রুপ ৬০ লাখ বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীর CV বিক্রির দাবি করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, CV-গুলো Bdjobs থেকে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে এবং ডেটাসেটের দাম হিসেবে ১,০০০ ডলারের কথাও এসেছে।
CV-তে সাধারণত নাম, ফোন নম্বর, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, চাকরির ইতিহাস, দক্ষতা, ই-মেইলসহ ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্য থাকতে পারে। তাই এমন ডেটাসেট সত্যি হলে তা phishing, identity theft, targeted scam এবং চাকরিপ্রার্থীদের বিরুদ্ধে social engineering-এ ব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—Bdjobs দাবিটি অস্বীকার করেছে। ফলে সংবাদে “৬০ লাখ CV চুরি হয়েছে” না লিখে “৬০ লাখ CV বিক্রির দাবি” লেখা সাংবাদিকতাগতভাবে সঠিক।
২০২৩–২০২৬: কতগুলো ঘটনা?
Tech Global Institute-এর সাম্প্রতিক গবেষণা বাংলাদেশের সমস্যাটিকে আরও বড় পরিসরে দেখিয়েছে। সংস্থাটি জানায়, জানুয়ারি ২০২৩ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত অন্তত ৬৮টি data breach incident শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৬টি সরকারি এবং ৩২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত।
গবেষণায় NID নম্বর, biometric records, passport details এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের কথা উঠে এসেছে। গবেষকরা mainstream media, dark-web monitoring services এবং threat-intelligence feeds ব্যবহার করে ঘটনাগুলো নথিভুক্ত করেছেন।
অর্থাৎ ৬০ লাখ CV-এর সাম্প্রতিক দাবি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি গত কয়েক বছরের একটি বৃহত্তর data-security pattern-এর অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে—যদিও প্রতিটি ঘটনার উৎস ও সত্যতা এক নয়।
ডার্ক ওয়েবে বাংলাদেশিদের কী কী পাওয়া গেছে?
প্রকাশ্য গবেষণা ও রিপোর্টগুলো একত্র করলে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়—
- নাম ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য
- NID নম্বর ও NID profile
- ফোন নম্বর
- ঠিকানা
- জন্মতারিখ
- পাসপোর্ট তথ্য
- ফিঙ্গারপ্রিন্ট/বায়োমেট্রিক-সংক্রান্ত তথ্য
- কল ডিটেইল ও যোগাযোগের metadata
- ই-মেইল
- চাকরি ও employment data
- username ও password
- ব্যাংক/আর্থিক তথ্য
- মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস-সংক্রান্ত তথ্য
- সরকারি সিস্টেমের login credentials
- বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের database
- গুরুত্বপূর্ণ সার্ভারের access credentials
- সম্প্রতি দাবিকৃত বিপুল CV dataset
BGD e-GOV CIRT-এর প্রতিবেদনে ২০২২ সালের credential theft-এর ক্ষেত্রেও database access credentials, bank credentials ও card-related data চুরির উল্লেখ রয়েছে।
- জুলাই ২০২৩: সরকারি-সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের দুর্বলতায় ৫ কোটির বেশি নাগরিকের তথ্য উন্মুক্ত হওয়ার ঘটনা সামনে আসে।
- নভেম্বর ২০২৩: NTMC-সংশ্লিষ্ট অনিরাপদ database-এ সংবেদনশীল তথ্য পাওয়া যায় এবং পরে database আক্রমণের শিকার হয়।
- ফেব্রুয়ারি ২০২৪: NID তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া সরকারি সেবা দেওয়ার চক্র শনাক্ত।
- মার্চ ২০২৪: Telegram-ভিত্তিক NID/MFS তথ্য বেচাকেনা নিয়ে সতর্কতা।
- মে ২০২৪: NID, ফোনকল ও আর্থিক তথ্য বিক্রির অনলাইন নেটওয়ার্ক নিয়ে অনুসন্ধান প্রকাশ।
- মে ২০২৪: IT service provider-এর মিলিয়নসংখ্যক PII ফাঁসের ঘটনা নথিভুক্ত।
- অক্টোবর ২০২৪: জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সার্ভারের root access বিক্রির বিজ্ঞাপন।
- অক্টোবর ২০২৪: ১১ কোটির বেশি নাগরিকের NID তথ্যের mirror copy তৈরির অভিযোগে সাবেক ডেটা সেন্টার পরিচালক গ্রেপ্তার।
- ২০২৫: পাঁচ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে NID তথ্য ফাঁসের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায় EC।
- আগস্ট ২০২৬: ৬০ লাখ বাংলাদেশি CV বিক্রির দাবি সামনে আসে; Bdjobs দাবি প্রত্যাখ্যান করে।
ডার্ক ওয়েব নিজে কোনো একক ‘হ্যাকিং বাজার’ নয়। এটি ইন্টারনেটের এমন একটি অংশ যেখানে বিশেষ সফটওয়্যার ও নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সাধারণ সার্চ ইঞ্জিনের বাইরে থাকা সেবা অ্যাক্সেস করা যায়। এর বৈধ ব্যবহারও রয়েছে। তবে ransomware group, data broker এবং cybercriminal-রা stolen credentials, databases ও access বিক্রির জন্য এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—সব ডেটা ফাঁস ডার্ক ওয়েব থেকে আসে না। অনেক তথ্য প্রথমে ভুল configuration, exposed server, insider access, phishing বা দুর্বল API-এর মাধ্যমে বের হয় এবং পরে Telegram, social media, underground forum কিংবা অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে।
সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো identity theft। NID, জন্মতারিখ, ফোন নম্বর ও ঠিকানা একসঙ্গে থাকলে অপরাধীরা targeted phishing বা impersonation করতে পারে।
দ্বিতীয় ঝুঁকি financial fraud। ব্যাংক বা MFS-সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে ফোন নম্বর ও পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য যুক্ত হলে প্রতারণার কৌশল আরও বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে।
তৃতীয় ঝুঁকি সরকারি ও জাতীয় নিরাপত্তা। পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, টেলিকম বা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর তথ্য ফাঁস হলে বিষয়টি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সীমা ছাড়িয়ে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে পরিণত হয়। NTMC ঘটনার ক্ষেত্রে এমন ঝুঁকি বিশেষভাবে স্পষ্ট হয়েছে।
সাম্প্রতিক ৬০ লাখ CV বিক্রির দাবি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়। Bdjobs এটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকা উচিত।
তবে সামগ্রিক চিত্র উদ্বেগজনক। Tech Global Institute-এর হিসাবে ২০২৩–২০২৬ সময়ে বাংলাদেশ-সম্পর্কিত ৬৮টি data breach incident নথিভুক্ত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শুধু নতুন firewall বা antivirus যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন নিয়মিত security audit, access-control review, database encryption, API monitoring, employee access logging, third-party vendor audit এবং breach হলে দ্রুত ও বাধ্যতামূলক disclosure ব্যবস্থা।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—কত কোটি টাকার database তৈরি হয়েছে বা কত মানুষকে digital service দেওয়া হয়েছে, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেই ডেটা কতটা নিরাপদ।
তথ্যসূত্র
- The Daily Star — ৬০ লাখ বাংলাদেশি CV বিক্রির দাবি
- Asia News Network — ৬০ লাখ CV বিক্রির দাবি
- New Age — ৬০ লাখ CV বিক্রির দাবি
- Tech Global Institute — Bangladesh Data Breach Research 2023–2026
- WIRED — NTMC Bangladesh Database Exposure
- BGD e-GOV CIRT — Bangladesh Cyber Threat Landscape
- BGD e-GOV CIRT — Info-Stealer Malware Alert
- The Daily Star — NID ও ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির অনুসন্ধান
- The Daily Star — অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির অনুসন্ধান
- bdnews24.com — দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্য বিক্রির অভিযোগ
- bdnews24.com — NID তথ্য বেচাকেনা নিয়ে সতর্কতা
- bdnews24.com — পাঁচ প্রতিষ্ঠানে NID data leak-এর প্রাথমিক প্রমাণ
- The Daily Star — ১১ কোটির বেশি নাগরিকের NID তথ্য নিয়ে তদন্ত
- Freedom House — Bangladesh Freedom on the Net 2024
