পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ঘিরে প্রতিবছর মুসলিম সমাজে নানা ধর্মীয় আয়োজন হয়ে থাকে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম, জীবন ও আদর্শ স্মরণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আলোচনা সভা, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ, নাত, দোয়া ও দান-সদকার আয়োজন করা হয়। তবে এ ধরনের আয়োজন ইসলামী শরিয়তে কতটা বৈধ—এ প্রশ্নে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু মূলত দুটি প্রশ্ন—মহানবী (সা.)-এর জন্ম স্মরণে আনন্দ প্রকাশ করা কি বৈধ এবং প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট দিনকে এ উদ্দেশ্যে ধর্মীয়ভাবে নির্ধারণ করা কি শরিয়তসম্মত?
কোরআনে ঈদে মিলাদুন্নবী নামে কোনো নির্দিষ্ট উৎসব পালনের সরাসরি নির্দেশ নেই। একইভাবে সহিহ হাদিসেও ১২ রবিউল আউয়ালকে কেন্দ্র করে বার্ষিক অনুষ্ঠান করার সরাসরি নির্দেশ পাওয়া যায় না। তবে মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর জীবন অনুসরণ, আল্লাহর নিয়ামতের জন্য আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বিষয়ে কোরআন-হাদিসে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে। এ জায়গা থেকেই দুই পক্ষের আলেমরা ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
কোরআনে মহানবী (সা.)-কে ‘রহমত’ বলা হয়েছে
পবিত্র কোরআনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে বলা হয়েছে, “আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবেই পাঠিয়েছি।”—সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ১০৭।
আর সূরা ইউনুসের ৫৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, “আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর রহমতের কারণে তারা যেন আনন্দিত হয়।”
ঈদে মিলাদুন্নবী জায়েজ মনে করা আলেমরা বলেন, মহানবী (সা.) নিজেই আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত। তাই তাঁর আগমনের জন্য আনন্দ প্রকাশ করা সূরা ইউনুসের এ সাধারণ নির্দেশনার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে এ আয়াতে সরাসরি “মিলাদুন্নবী উদযাপন” বলা হয়নি—এটি একটি ব্যাখ্যাগত প্রয়োগ, সরাসরি নির্দেশ নয়।
মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন নিয়ে সহিহ হাদিস কী বলে?
এ বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাদিসটি পাওয়া যায় সহিহ মুসলিমে।
আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.)-কে সোমবার রোজা রাখার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “এ দিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এ দিনই আমার ওপর ওহি নাজিল হয়েছে।” সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৬২।
এ হাদিসটি দুই পক্ষের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ।
যারা মিলাদকে জায়েজ মনে করেন
তাদের যুক্তি হলো, মহানবী (সা.) তাঁর জন্মের দিনের সঙ্গে একটি ইবাদত—সোমবারের রোজাকে—সম্পর্কিত করেছেন। অর্থাৎ জন্মের নিয়ামতের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের একটি পদ্ধতি তিনি নিজেই গ্রহণ করেছেন।
মিসরের দারুল ইফতা এই হাদিসের ভিত্তিতে যুক্তি দেয় যে মহানবী (সা.) তাঁর জন্মের জন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া, দরুদ, সীরাত আলোচনা, মানুষকে খাবার খাওয়ানোসহ শরিয়তসম্মত কাজের মাধ্যমে তাঁর জন্মস্মরণ করা বৈধ হতে পারে।
তবে এখানেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। হাদিসে সোমবারের রোজার কথা আছে; ১২ রবিউল আউয়ালে বার্ষিক মিলাদ অনুষ্ঠানের সরাসরি নির্দেশ নেই। জায়েজপন্থী আলেমরা সাধারণ শরিয়তি নীতির আলোকে এ হাদিসকে মিলাদের পক্ষে একটি ভিত্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
আশুরার হাদিস থেকেও একটি যুক্তি
সহিহ বুখারির হাদিসে এসেছে, মদিনায় এসে মহানবী (সা.) দেখলেন ইহুদিরা আশুরার দিনে রোজা রাখছে। তারা জানায়, এ দিনে আল্লাহ মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলকে ফেরাউনের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। মুসা (আ.) কৃতজ্ঞতা হিসেবে রোজা রেখেছিলেন।
মহানবী (সা.) বলেন, “আমরা মুসার অধিক হকদার।” এরপর তিনি নিজে রোজা রাখেন এবং মুসলমানদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দেন। সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৩৯৭ ও ২০০৪।
মিলাদকে বৈধ মনে করা কিছু আলেম এ ঘটনা থেকে একটি সাধারণ নীতি গ্রহণ করেন—আল্লাহর কোনো বড় নিয়ামত বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনার জন্য নির্দিষ্ট সময়ে শুকরিয়া আদায় করা মূলত নিষিদ্ধ নয়। তাদের মতে, মহানবী (সা.)-এর আগমন মানবজাতির জন্য সবচেয়ে বড় নিয়ামতগুলোর একটি হওয়ায় তাঁর জন্মস্মরণও এ নীতির আওতায় আসতে পারে। মিসরের দারুল ইফতাও আশুরার ঘটনা ও সোমবারের রোজাকে এ আলোচনায় দলিল হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিপরীত মত: মিলাদ বিদআত—কেন বলেন কিছু আলেম?
অন্যদিকে একদল আলেম বলেন, ইসলামের ইবাদত ও ধর্মীয় উৎসব নির্ধারণের ক্ষেত্রে কেবল সাধারণভাবে ভালো কাজ হওয়া যথেষ্ট নয়; বরং নির্দিষ্ট সময়, স্থান ও পদ্ধতিকে ধর্মীয় আমল হিসেবে নির্ধারণের জন্য শরিয়তের দলিল প্রয়োজন।
তারা সহিহ বুখারির ২৬৯৭ নম্বর হাদিসের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, “আমাদের এ বিষয়ে এমন কিছু চালু করা হলে, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।”
সহিহ মুসলিমের ১৭১৮ নম্বর হাদিসেও একই অর্থে নতুনভাবে ধর্মীয় বিষয় সংযোজন প্রত্যাখ্যানের কথা এসেছে।
এ পক্ষের আলেমদের যুক্তি হলো, মহানবী (সা.) নিজে জন্মদিনের বার্ষিক অনুষ্ঠান করেননি। সাহাবায়ে কেরামও করেননি। প্রথম যুগের মুসলমানদের মধ্যেও এমন আয়োজনের প্রমাণ নেই। তাই ভালো উদ্দেশ্য থাকলেও কোনো নির্দিষ্ট দিনকে ধর্মীয় উৎসব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা শরিয়তসম্মত নয়।
ইসলাম প্রশ্নোত্তরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান IslamQA-ও এ মতের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, মহানবী (সা.), সাহাবা ও প্রথম যুগের মুসলমানরা এভাবে জন্মদিন পালন করেননি। তাদের মতে, সোমবার রোজার হাদিসটি বার্ষিক জন্মদিন উদযাপনের দলিল নয়; বরং প্রতি সোমবার রোজা রাখার একটি সুন্নাহ।
ইসলামওয়েবও একইভাবে জানায়, মহানবী (সা.) ও খুলাফায়ে রাশেদীন মিলাদ উদযাপন করেছেন—এমন সহিহ বর্ণনা নেই।
‘ইসলাম পরিপূর্ণ’—এই আয়াতের ব্যাখ্যা কী?
মিলাদকে বিদআত মনে করা আলেমরা সূরা আল-মায়েদার ৩ নম্বর আয়াতও উল্লেখ করেন। সেখানে আল্লাহ বলেন, “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।”
তাদের বক্তব্য, ইসলাম যখন পরিপূর্ণ হয়ে গেছে, তখন পরবর্তী সময়ে কোনো নতুন ধর্মীয় উৎসবকে ইবাদতের অংশ হিসেবে যোগ করা যায় না।
অন্যদিকে মিলাদকে বৈধ মনে করা আলেমরা বলেন, নতুন কোনো আলাদা ইবাদত সৃষ্টি করা আর কোরআন-হাদিসে অনুমোদিত বিভিন্ন আমল—যেমন কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ, সীরাত আলোচনা, দান ও মানুষকে খাবার খাওয়ানো—একত্রে আয়োজন করা এক বিষয় নয়। তাদের মতে, মিলাদ একটি সমাবেশ বা স্মরণ-অনুষ্ঠান; এর ভেতরের প্রতিটি কাজ যদি শরিয়তসম্মত হয়, তাহলে সমাবেশটিকেও বৈধ বলা যেতে পারে। জর্ডানের সরকারি ইফতা বিভাগ এ ধরনের ব্যাখ্যাই দিয়েছে।
‘ভালো বিদআত’ নিয়ে আলেমদের মতভেদ
মিলাদপন্থী কিছু আলেম ‘বিদআত’ শব্দটিকে দুইভাবে ব্যাখ্যা করেন—শরিয়তবিরোধী নতুন ধর্মীয় কাজ এবং এমন নতুন আয়োজন, যার মূল উদ্দেশ্য ও উপাদান শরিয়তের সাধারণ দলিলের আওতায় পড়ে।
মিসরের দারুল ইফতা জানায়, ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ুতি মিলাদকে এমন একটি প্রশংসনীয় নতুন আয়োজন হিসেবে দেখেছেন, যেখানে কোরআন পাঠ, নবীজির সীরাত আলোচনা ও খাবারের আয়োজন করা হয় এবং অন্য কোনো শরিয়তবিরোধী কাজ থাকে না।
তবে বিরোধী মতের আলেমরা ‘বিদআতে হাসানা’ ধারণাটিই গ্রহণ করেন না ধর্মীয় ইবাদতের ক্ষেত্রে। তাদের যুক্তি, মহানবী (সা.) বলেছেন, “প্রত্যেক বিদআত পথভ্রষ্টতা।” এ হাদিসটি সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে।
আলেমদের মতভেদটি আসলে কোথায়?
দুই পক্ষের মধ্যে মূল পার্থক্য মহানবী (সা.)-কে ভালোবাসা বা তাঁর সীরাত আলোচনা করা নিয়ে নয়। উভয় পক্ষই মহানবী (সা.)-এর ভালোবাসা, তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ এবং তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়ার গুরুত্ব স্বীকার করে।
মতভেদ হলো—এসব কাজের জন্য প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট দিনকে ধর্মীয়ভাবে নির্ধারণ করা যাবে কি না।
জায়েজপন্থী আলেমরা সাধারণ শরিয়তি নীতি ও বিভিন্ন আমলের সমন্বয়কে ভিত্তি করে অনুমোদন দেন। জর্ডানের সরকারি ইফতা বিভাগও শর্তসাপেক্ষে কোরআন তিলাওয়াত, সীরাত পাঠ, নবীজির প্রশংসা ও দোয়ার মাধ্যমে মিলাদ আয়োজনকে বৈধ বলেছে।
অন্যদিকে নিষেধপন্থী আলেমরা বলেন, ভালো কাজগুলো অবশ্যই করা যাবে, কিন্তু সেগুলোকে ১২ রবিউল আউয়ালের নির্দিষ্ট ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।
মিলাদে কী কী করা হলে আপত্তি কম?
এ বিষয়ে দুই পক্ষের আলোচনাতেই একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় মিল রয়েছে—যে কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হারাম কাজ যুক্ত করা যাবে না।
যেমন:
- কোরআন তিলাওয়াত
- দরুদ ও সালাম
- মহানবী (সা.)-এর সীরাত আলোচনা
- তাঁর চরিত্র ও সুন্নাহ নিয়ে আলোচনা
- দোয়া
- গরিবদের খাবার খাওয়ানো
- দান-সদকা
- মানুষকে ভালো কাজে উৎসাহ দেওয়া
এসব কাজ নিজের অবস্থানেই ইসলামীভাবে স্বীকৃত আমল। কিন্তু কোনো অনুষ্ঠানে অশ্লীলতা, অপচয়, অন্যায় বিনোদন, নারী-পুরুষের অনিয়ন্ত্রিত মেলামেশা, শিরক বা নবী (সা.)-কে আল্লাহর গুণাবলির সঙ্গে তুলনা করার মতো বিষয় যুক্ত হলে তা বৈধ হবে না। জর্ডানের ইফতা বিভাগও মিলাদ আয়োজনকে শরিয়তবিরোধী বিষয় থেকে মুক্ত রাখার ওপর জোর দিয়েছে।
মহানবী (সা.)-এর ভালোবাসার প্রকৃত প্রমাণ কী?
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, “তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমার অনুসরণ করো; আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।”—সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৩১।
অর্থাৎ মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার সবচেয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ হলো তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করা।
তাই মিলাদ পালন করা হোক বা না হোক—নামাজ, সত্যবাদিতা, আমানতদারি, মানুষের অধিকার রক্ষা, দরিদ্রের পাশে দাঁড়ানো, সুন্নাহ অনুসরণ এবং মহানবী (সা.)-এর চরিত্র ধারণ করাই তাঁর প্রতি ভালোবাসার সবচেয়ে মৌলিক প্রকাশ।
তাহলে ইসলামে ঈদে মিলাদুন্নবী জায়েজ কি না?
সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো: এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে এবং কোরআন বা সহিহ হাদিসে ১২ রবিউল আউয়ালকে কেন্দ্র করে বার্ষিক ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের সরাসরি নির্দেশ নেই।
একদল আলেম—যাদের মধ্যে মিসর ও জর্ডানের সরকারি ইফতা প্রতিষ্ঠানের আলেমরাও রয়েছেন—শরিয়তসম্মত বিষয় যেমন কোরআন পাঠ, সীরাত আলোচনা, দোয়া, দরুদ ও মানুষকে খাবার খাওয়ানোর মাধ্যমে মহানবী (সা.)-এর জন্মস্মরণকে জায়েজ/প্রশংসনীয় মনে করেন।
অন্যদিকে IslamQA ও Islamweb-এর মতো প্রতিষ্ঠান এবং তাদের অনুসৃত আলেমরা মনে করেন, নির্দিষ্ট দিনকে ধর্মীয়ভাবে নির্ধারণ করে মিলাদ আয়োজন বিদআত ও জায়েজ নয়, কারণ মহানবী (সা.), সাহাবায়ে কেরাম ও প্রথম যুগের মুসলমানদের কাছ থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায় না।
সুতরাং বিষয়টি ইসলামী ফিকহের একটি মতভেদপূর্ণ বিষয়। এ নিয়ে এক পক্ষের মানুষকে অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে গালাগাল বা মুসলমানের ঈমান নিয়ে প্রশ্ন তোলা সমীচীন নয়। বরং প্রত্যেকে নিজের অনুসৃত নির্ভরযোগ্য আলেম ও মাজহাবের ব্যাখ্যা অনুসরণ করতে পারেন এবং মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ হিসেবে তাঁর সুন্নাহ ও চরিত্র অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিতে পারেন।
গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়: ১২ রবিউল আউয়ালই কি নিশ্চিত জন্মতারিখ?
এখানেও ঐতিহাসিক মতভেদ রয়েছে। রবিউল আউয়াল মাসে মহানবী (সা.) জন্মগ্রহণ করেছেন—এ বিষয়ে ব্যাপক ঐকমত্য থাকলেও ঠিক কোন তারিখে জন্মগ্রহণ করেছেন, তা নিয়ে ঐতিহাসিক সূত্রে মতভেদ রয়েছে। মিসরের দারুল ইফতাও এ বিষয়টিকে আলেমদের মতভেদের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং ১২ রবিউল আউয়ালকে প্রচলিত মত হিসেবে বর্ণনা করেছে।
তাই ১২ রবিউল আউয়ালকে বাংলাদেশে ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে পালন করা একটি প্রচলিত ও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত বিষয় হলেও, এটিকে মহানবী (সা.)-এর জন্মতারিখের ব্যাপারে চূড়ান্ত ঐতিহাসিক ঐকমত্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।
শেষ কথা
ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের প্রশ্নে কোরআন-হাদিসের দলিল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মহানবী (সা.)-এর জন্মদিনকে কেন্দ্র করে সরাসরি বার্ষিক অনুষ্ঠান করার নির্দেশ নেই। আবার তাঁর জন্মের নিয়ামতের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া, তাঁর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর জীবন ও আদর্শ স্মরণ এবং সৎকাজ করার পক্ষে কোরআন-হাদিসে বিস্তৃত নির্দেশনা রয়েছে।
এই দুই জায়গার ব্যাখ্যার পার্থক্য থেকেই আলেমদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে। তাই এ বিষয়ে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান হলো—কোনো একটি মতকে একমাত্র ইসলামী সিদ্ধান্ত হিসেবে না দেখিয়ে, উভয় পক্ষের দলিল ও ব্যাখ্যা পাঠকের সামনে তুলে ধরা।
মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার বিষয়ে একটি বিষয়ে অবশ্যই দ্বিমত নেই—তাঁর জীবন, চরিত্র, সুন্নাহ ও মানবিক শিক্ষাকে অনুসরণ করাই মুসলমানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
