আগামী ২৬ আগস্ট বুধবার বাংলাদেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হবে। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশের আকাশে রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় ১৫ আগস্ট থেকে ১৪৪৮ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হয়। সেই হিসাবে ১২ রবিউল আউয়াল পড়েছে ২৬ আগস্ট। দিনটি বাংলাদেশে সরকারি ছুটি হিসেবে পালিত হবে।
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সরকার দেশজুড়ে জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, মসজিদ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত, কিরাত, কবিতা পাঠ, কুইজ ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত
গত ১৩ আগস্ট সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান—স্পারসো থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। এতে বাংলাদেশের আকাশে রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি বলে জানানো হয়।
এর ফলে ১৪ আগস্ট সফর মাস ৩০ দিন পূর্ণ হয় এবং ১৫ আগস্ট শনিবার থেকে রবিউল আউয়াল মাস শুরু হয়। সে হিসাবে ২৬ আগস্ট বুধবার ১২ রবিউল আউয়াল পড়েছে এবং ওই দিন ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালনের সিদ্ধান্ত হয়।
দেশজুড়ে থাকবে নানা কর্মসূচি
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সরকার যে জাতীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, তার মধ্যে রয়েছে দেশের সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও সশস্ত্র বাহিনীর স্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন।
ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ড, লাইটপোস্ট, বিভিন্ন স্থান ও সড়ক জাতীয় পতাকা ও রঙিন পতাকা দিয়ে সাজানোর কর্মসূচিও রয়েছে।
দেশের সব মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং সশস্ত্র বাহিনীর নিজ নিজ এলাকায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করার কথা রয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিশেষ আয়োজন
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ওয়াজ মাহফিল, সেমিনার ও টকশো আয়োজন করা হবে। এর পাশাপাশি কিরাত, হামদ-নাত, স্বরচিত কবিতা পাঠ, শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং আরবি ভাষায় খুতবা লেখার প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ চত্বরে মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলার আয়োজনও করা হয়েছে। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে স্মরণিকা ও বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও কর্মসূচি
সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, ওয়াক্ফ প্রশাসকের কার্যালয়, ঢাকা ও জেদ্দা হজ অফিস এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত, কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরও ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে জাতীয় কর্মসূচির আলোকে কর্মসূচি প্রণয়ন ও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমির উদ্যোগে শিশুদের জন্য হামদ-নাত, আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন আয়োজন থাকবে।
গণমাধ্যমে বিশেষ অনুষ্ঠান
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমকে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সংবাদপত্রগুলোকে এ উপলক্ষে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দেবেন বলেও জাতীয় কর্মসূচিতে জানানো হয়েছে।
হাসপাতাল, কারাগার ও শিশু প্রতিষ্ঠানে বিশেষ ব্যবস্থা
দিবসটি উপলক্ষে দেশের সামরিক ও বেসামরিক হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, শিশু সদন, আবাসিক শিশু বিকাশ কেন্দ্র এবং প্রবীণ নিবাসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা থাকবে।
বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনগুলোতেও যথাযথ মর্যাদায় ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার নির্দেশ
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও জনসমাগম হবে। এসব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় বিশেষ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
ঈদে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য
ঈদে মিলাদুন্নবী মুসলিম সমাজে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, কর্ম ও আদর্শ স্মরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উপলক্ষ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। রবিউল আউয়াল মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মহানবীর জীবন ও শিক্ষা নিয়ে আলোচনা, দোয়া, মিলাদ ও ধর্মীয় আয়োজন হয়ে থাকে।
বাংলাদেশেও প্রতিবছর সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। এবারের জাতীয় কর্মসূচিতেও মহানবী (সা.)-এর জীবন ও কর্মের পাশাপাশি শান্তি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্বভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদার বিষয়গুলো তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
২৬ আগস্ট সরকারি ছুটি
২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকায় ঈদে মিলাদুন্নবীর জন্য ২৬ আগস্ট বুধবার দিনটি নির্ধারিত রয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের ছুটির তালিকার প্রজ্ঞাপনেও এ ছুটির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে ওই দিন নিয়মিত কার্যক্রমে ছুটি থাকবে। জরুরি সেবাগুলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী চালু থাকবে।
